কাঠ বাদামের উপকারিতা : কমবেশি সকলেই আমরা কাঠবাদাম চিনে থাকি এবং অনেক কাজে ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমরা কেউই জানিনা এই কাঠবাদামের মধ্যে লুকিয়ে আছে অফুরন্তর শক্তি ক্ষমতা যার সাহায্যে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি লাভ পাওয়া যায় । কাঠবাদাম খেলে উপকার পাশাপাশি মানুষের অউপকার হয়ে থাকে যদি কাঠবাদাম সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয়।
★কাঠবাদামি কোন কোন উপাদান থাকে ?
★কাঠবাদাম খেলে কি কি উপকার হয় ?
★কাঠবাদাম খাওয়ার সঠিক সময় কখন ?
★কাঠবাদাম কিসের সাথে খেলে বেশি উপকার ?
★কাঠ বাদাম কিভাবে খাওয়া উচিত ?
★কাঠবাদাম কোন কোন রোগ দূর করে ?
★কাঠবাদাম কাদের খাওয়া উচিত নয় ?
ইত্যাদি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর জানতে নিচের আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ুন….
★কাঠবাদামে কোন কোন উপাদান থাকে ?
প্রতিদিন মাত্র চারটি করে কাঠ বাদাম যদি খাওয়া হয় শরীর থেকে বিভিন্ন রোগ বিদায় নেবে। কিন্তু কাঠবাদামের মধ্যে এমন কি শক্তি আছে যা বিভিন্ন রোগকে দমন করতে পার। আসলে কাঠবাদামে থাকে প্রচুর পরিমাণে ও-মেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-E, জিংক, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম। এইসব বিভিন্ন উপকারী উপাদান থাকার জন্য মাত্র চারটি কাঠবাদাম খেলেই শরীরে বিভিন্ন রোগ, ব্যাধি ভ্যানিশ হয়ে যায়।
★কাঠবাদাম খেলে কি কি উপকার হয় ?
1.কাঠবাদামের থাকার ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের হাড়ব্যথা,পেশিব্যথা অন্যান্য সবরকম ব্যথাকে দূর করে।
2. কাঠবাদাম খেলে হজম ক্ষমতা বেড়ে যায় যার ফলে গ্যাস,এসিডিটি, পেটব্যথা,বদহজম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
3. কাঠবাদাম শরীরে বর্জ্যপদার্থের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে। কাঠবাদামে এত পরিমাণ ফাইবার থাকে যে ফাইবার পেট ব্যথা ,কোষ্ঠকাঠিন্য মেজিকের মতো দূর করে। যেসব রোগীদের দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের কাঠবাদাম খাওয় একান্ত প্রয়োজন।
4. ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে কাঠবাদাম সাহায্য করে যার ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ থাকে। যার ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের ডাক্তাররা কাঠবাদাম খেতে বলে থাকে।
5. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাঠবাদামের ভূমিকা অতুলনীয়। কাঠ বাদামের সোডিয়াম এর পরিমাণ কম থাকলেও পটাশিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি থাকে ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত হয়।
5. কাঠ বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড রয়েছে যা রক্ত জমাট বাঁধার মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যেসব রোগীদের রক্ত জমাট বাধা রোগ থাক তাদের একান্ত কাঠবাদাম খাওয়া উচিত।
6. কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে হাই কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণে আসবে যার ফলে মানুষের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে না। এবং কাঠবাদামে যে পরিমাণ পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে হার্টের কার্যক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।
7. কাঠবাদাম খেলে চোখের দৃষ্টি ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় কারো নীতি রয়েছে ভিটামিন-A। কাঠবাদাম কি ব্রেন-ফুড বলা হয় কারণ এটি খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কাজে ব্যবহৃত হয় বলেই ছোটবেলা থেকে একটি শিশুকে কাঠবাদাম খাওয়ানো উচিত।
8. কাঠ বাদাম খেলে অনেক সময় খিদার চাহিদা মিটিয়ে দেয়। এটি কার ফলে শরীরে অন্যান্য প্রোটিন,ক্যালসিয়ামের কোন ঘাটতি হবে না। কোন মানুষের শরীর দুর্বল থাকলেই এই বাদাম খাওয়া একান্ত প্রয়োজন। কারণ এই বাদাম সঠিক পরিমাণে খেলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
9. পায়ের পেশী হাতের পেশি মজবুত করতে ও যাদের সহজে চুল পড়ে যায় তাদের চুল পড়া বন্ধ করতে কাঠবাদাম খাওয়া দরকার।
10. এই কাঠবাদাম জলে ভিজিয়ে বেটে হাতের চামড়ার মধ্যে লাগানো হয় তাহলে হাতের চামড়া সুন্দর ও মসৃণ হবে।
কাঠবাদাম খাওয়ার প্রক্রিয়া ও সঠিক সময় :
বড়ো মানুষেরা প্রতিদিন সকালবেলা চারটি করে কাঠবাদাম ও বাচ্চাদের এক বছরের পর থেকে হাফ চামচ কাঠ বাদাম গুড়ো দুধের সাথে মিশিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ানো উচিত। যারা দৌড়াদৌড়ি ও বিভিন্ন ব্যায়াম করে তাদের রাত্রে বেলায় কাঠবাদাম ভিজিয়ে রেখে সকালবেলায় ব্রেকফাস্ট খাওয়ার ১৫ মিনিট আগে সেগুলো চিবিয়ে খেতে হবে ।তাহলে তাদের পেশি মজবুত হবে ও দোড় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ডায়াবেটিস না থাকলে কাঠ বাদামের সাথে মধু কিংবা গুড় মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এটি দুধের সাথে রাত্রিবেলায় কিংবা সকাল বেলা খাওয়া যেতে পারে। কাঠবাদাম কখনো লবণের সাথে ভেজে খাওয়া উচিত নয়। লাবণের সাথে কাঠবাদাম ভেজে খেলে নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। যারা কাঠবাদাম গিলে খেতে বা চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হয়, তারা কাঠবাদামগুলো করে খাওয়া উচিত না হলে শ্বাসনালীতে আটকে যেতে পারে।
কাঠবাদাম খাওয়ার কুফল :
কাঠবাদাম খাওয়ার পর যদি শরীরে এলার্জি, চুলকানি,শরীর ফুলে যাওয়া,চোখ লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় তাদের কাঠবাদাম খাওয়া অনুচিত । যারা E- সাপ্লিমেন্ট নিচ্ছে তাদের কাঠবাদাম খাওয়া উচিত নয় কারণ কাঠবাদামে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন -E থাকে যার ফলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ও শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। যারা রক্তচাপের ওষুধ,এন্টিবায়োটিক ও লাক্সাটিপ জাতীয় ঔষধ সেবন করে তাদের কাঠবাদাম খেলেও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে খেতে হবে।
কাঠবাদাম সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন থেকে থাকলে অবশ্যই কমেন্টে লিখে জানাও। এবং আরো অন্যান্য সম্বন্ধে জানতে চ্যানেলটিকে ফলো করে সাথে থাকুন।

Comments
Post a Comment